সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভিজিএফ কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই সংবাদে তার নিজ নামসহ হারুন অর রশিদ সরকারের নাম জড়িয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তারা কখনোই ব্যক্তিগতভাবে ভিজিএফ কার্ড গ্রহণ বা বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং সবসময় প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
মাহবুব মোর্শেদ খোকন অভিযোগ করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ না করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হিসেবে জনগণের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিজিএফ কর্মসূচি একটি সরকারি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, যা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশিত সংবাদের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও সঠিক তথ্য যাচাই করে সংশোধনী প্রকাশের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সম্মান ও সুনাম রক্ষার্থে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক হারুন অর রশিদ সরকার বলেন, “মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান লিটু, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোবারুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিষ্ট মিয়া, সদস্য পলাশ, ইউনিয়ন যুবদল নেতা খোকন সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ইকবাল বলেন, ভিজিএফ কার্ড সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মেম্বারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যেই কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।