চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নবুরকান্দি এলাকার বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মর্জিনা আক্তার (৪৫) ও প্রবাসী হাবিব মিয়ার স্ত্রী মনি আক্তার (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় মনি আক্তারকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিবাদী নুরুল আমিনের কাছে বিভিন্ন সময়ে ধার হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার দিন পাওনা টাকা চাইতে গেলে নুরুল আমিন ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলামকে মারধর করে, এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন।
আরও জানা যায়, তার চিৎকার শুনে স্ত্রী ও পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এসময় পুত্রবধূর কোলে থাকা শিশু হুমায়ারা আক্তার (১ বছর ৬ মাস) কে মাটিতে ফেলে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি পুত্রবধূর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত মনি আক্তারকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, বিবাদী নুরুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শফিকুল ইসলামের পক্ষই তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, আমরা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ করেছি। এতে আমার স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তারা আমাদের বাড়িঘরেও হামলা চালিয়েছে। আমরাও আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নুর মোহাম্মদ বেপারী ও রিপন বেপারী জানান, উভয় পক্ষই পরস্পরের আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন রয়েছে। ঘটনার দিন নুরুল আমিনের বাড়িতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।